পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট সাবলিমোশন সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা

পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট সাবলিমোশন সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা
Source: Internet


বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রেস্টুরেন্ট সাবলিমোশন (Sublimotion)। এটি স্পেনের দ্বীপ ইবিথাতে অবস্থিত। 2014 সালে হোটেল হার্ড রক ইবিথাতে এর যাত্রা শুরু করে। প্রতিবছর স্প্যানিশ গ্রীষ্মকাল অর্থাৎ পহেলা জুন থেকে 30 সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই রেস্টুরেন্ট খোলা থাকে। এসময় প্রতিদিন দুইবারে 12 জন করে এখানে খাওয়ার সুযোগ পান। তিন ঘণ্টায় 20 ধরনের খাবার খেতে জনপ্রতি খরচ হয় 2380 ডলার অর্থাৎ বকশিস ছাড়াই প্রতি রাতে আয় হয় 57 হাজার ডলার। কেনো এতো খরচ হয় এই রেস্টুরেন্টে, এমন কী বা পাওয়া যায় এখানে? এসকল বিষয় নিয়ে কথা হবে Oralcoxbd.xyz এর এই পর্বে। তো চলুন শুরু করা যাক।

সাব্লিমোশন (Sublimotion) রেস্টুরেন্টের এর প্রধান উদ্যোক্তা Paco Roncero. এখানে আগত খাদ্য বিলাসীদের উপহার দেয়া হয় গান ও নাচের পরিবেশন, যন্ত্রসংগীত, জাদু শিল্প প্রদর্শনী ও সুস্বাদু খাবারের সমন্বয়ে এক জাঁকজমকপূর্ণ অভিজ্ঞতা। এ রেস্টুরেন্টে রাঁধুনি, বেয়াড়া, শিল্পী, জাদুকর, ডিজে এবং টেকনিশিয়ান সহ মোট 25 জন কাজ করেন। 

এখানে বুকিং দিলে আপনি যত কাছাকাছি থাকুন না কেন এদের এক লাখ ডলার মূল্যের ল্যান্ড রোভার আপনাকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসবে। তারপর আপনাকে একটি পুরনো হলিউড ধাঁচের অভ্যর্থনা কক্ষে বসতে দিয়ে টিকিট দেবে। মজার ব্যাপার হলো এই চিঠি ও এর খাম দুটোই আসলে খাওয়া যায়। এর স্বাদ নাকি অনেকটা রাজব্যরীর মত। যে কোন একটি খামে আবার থাকে সোনালী টিকিট। এ টিকেটের প্রাপকের জন্য পরবর্তীতে থাকে আকর্ষণীয় চমক। এরপর আপ্যায়নকারী সবাইকে হুইস্কি শট দেয়, তারপর ক্যাপসুল লিফটে করে সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় খাবার রুমে। এই ঘরেই বিশাল আকৃতির সাদা টেবিলের চারপাশে ১২টি আসন রয়েছে। এই টেবিলসহ চারদেয়ালের সম্পূর্ণ অংশই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে মোড়া। এ দেয়াল গুলো মূলত মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বিস্তৃত ডিজিটাল স্ক্রিন। লেজার লাইট প্রজেকশন এর প্রভাবেই টেবিলটির দেয়ালের সাথে বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন রূপ ধারণ করে। যার ফলে টেবিলে বসা অবস্থায়ই ভোক্তাদের মনে হয় যে তারা অন্য কোন স্থানে বসে খাবার উপভোগ করছেন। এই ঘরে প্রবেশের পর প্রত্যেক মেহমানকেই স্যামসাং গিয়ার ভিআর হেডসেট দেওয়া হয়। এর সাহায্যে দ্বারা মনোমুগ্ধকর কাল্পনিক পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারেন। এই কল্পনার রাজ্যে সকলে ইচ্ছেমতো বিশ্বের যেকোন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করে আবার স্কাইডাইভিং কিংবা রোলার কোস্টারে উঠতে পারেন।

বিশ্বের সবচেয়ে দামী রেস্টুরেন্টে কি রকম খাবার দেওয়া হয়?

এবার আসি খাবারের কথায়, প্রথমেই অতিথিদের ছোট্ট চারকোনা অতি সুস্বাদু খাবার দেয়া হয়। তারপর হিমায়িত নাইট্রোজেনের জমানো অলিভ অয়েল দেয়া হয় সতেজ ফিশ ক্যাবিয়ার ওয়েস্টার এর সাথে। সেইসাথে পানীয় হিসেবে শ্যাম্পেন থাকি পাশেই এবং এত কিছুর পাশাপাশি ঘরের মধ্যে সমুদ্র তলদেশের দৃশ্য শব্দ দ্বারা একপ্রকার বাস্তবিক সামুদ্রিক আবহ তৈরি করা হয়। এরপর শামুকের খোলস এর মধ্যে স্বাদে পরিপূর্ণ মাছ পরিবেশন করা হয়। সেই সাথে সমুদ্রের নিচে ডলফিন অতিথিদের পাশ ঘেঁষে সাঁতরে যাচ্ছে বলে মনে হয়। এতটাই চমৎকার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এই রেস্টুরেন্টে। এরপরে খাবারটি আক্ষরিক অর্থেই আকাশ থেকে নেমে। এটি মূলত কাচের গোলকের মধ্যে পরিবেশিত মজাদার একটি সবজি। 

এরপর বেয়ারা একটু বিভিন্ন ধরনের সুসী পরিবেশন করে আর সাথে সাথে চারপাশের জ্বলন্ত আগুনের দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় সাধারণত এসি ডিসি এর হাইওয়ে টু হেল' গানটি বেজে ওঠে। এরপর বাগানের মত এলাকার দৃশ্য প্রদর্শনীর সাথে সাথেই d.i.y সালাত পরিবেশন করা হয়, যেটি দেখতে অনেকটাই সবজি বাগানের মত। এখানে অতিথিরা তাদের পছন্দসই আবহ সৃষ্টি করতে পারেন। চলন্ত রেলগাড়ি বা উড়োজাহাজের ভিতরের আবহ সৃষ্টি করে তারা তাদের খাবার উপভোগ করতে পারেন। উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে ব্রিটনি স্পিয়ার্সের টক্সিক্যান্ট গানটি বেজে ওঠে। সেই সাথে বিমানবালা বেশে কর্মীরা নাচ প্রদর্শন করতে করতেই অতিথিদের সেম্পেইন পরিবেশন করে। 

অবশেষে সোনালী টিকেট জয়ী অতিথি তার শৈশবের কিছু স্মৃতিচারণ করেন। তারপর সবাইকে সার্কাসের রঙের দুনিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয় চোখ ধাঁধানো দৃশ্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে। নাগরদোলায় করে বিভিন্ন ক্ষুদ্রাকৃতির পিঠা, মিষ্টান্ন, স্যান্ডউইচ ইত্যাদি পরিবেশিত হয়। 

সবশেষে খাবারের ঘরটিকে নাইট ক্লাবের রূপ দেয়া হয়। টেবিলের সব শেষ খাবার, চকলেট কেক এমন ভাবে রাখা হয় যে, এটা দেখলে মনে হয় যেন শূন্যে ভাসছে। এর প্রতিষ্ঠাতা Paco Roncero'র দাবি এই খাবারগুলোর প্রতিটি উপকরণসহ সতেজ ও মানসম্মত। এই অভিনব পরিবেশ সৃষ্টির পেছনে প্রায় 100 জন সংগীত পরিচালক, প্রযুক্তিবিদ, জাদুকর ও অন্যান্য পেশাদার ব্যক্তি প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নিয়োজিত থাকেন। খাবারের সাথে শব্দের যোগাযোগ সৃষ্টির কাজটি করেছেন বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক ওয়ালি ল'বেজ।

 অন্যদিকে খাবার পরিবেশনের যাদুবিদ্যা প্রদর্শনীর কৃতিত্ব বিখ্যাত যাদু শিল্পী জর্জ প্লাসের। এ বিলাসবহুল রেস্টুরেন্টের আকাশছোঁয়া মূল্য ও তার যথার্থতা সম্পর্কে সে Paco Roncero বলেন যে একমাত্র বাস্তবিক অভিজ্ঞতা দ্বারাই তাঁদের সম্পর্কের বোঝা সম্ভব এটি রেস্টুরেন্ট হিসেবে ব্যয়বহুল হলেও অন্য কোথাও পাওয়া যাবে না এমন সব অভিজ্ঞতা। বিনিময় জনপ্রতি প্রায় 3000 ডলার তেমন আপত্তিকর নয়।